• ২১শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

স্কুলের ভবন নির্মাণে অনিয়ম: কাজ বন্ধ করলেন ইউএনও

ডেস্ক
প্রকাশিত জুন ২১, ২০২৩, ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ণ
স্কুলের ভবন নির্মাণে অনিয়ম: কাজ বন্ধ করলেন ইউএনও
সংবাদটি শেয়ার করুন....

স্কুল ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে কাজ বন্ধ করে দিলেন ইউএনও। ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়নের চান্দামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণে।

নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় ঠিকাদারকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এলাকাবাসী। পরে ইউএনও ও থানা পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন ইউএনও।

সোমবার (১৯ জুন) কাজ বন্ধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গংগাচড়া উপজেলার ইউএনও নাহিদ তামান্না।

এ ঘটনায় রোববার (১৮ জুন) বিকেলে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন ইউএনও। তিন সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল হানিফ।

সদস্যরা হলেন- উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মোশারফ হোসেন ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান। সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন ইউএনও’র কার্যালয়ে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তদন্ত কমিটিকে।

উপজেলা প্রকৌশলী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা প্রকৌশলী অধিদফতরের অধীনে ওই বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবন নির্মাণ শুরু হয় আট মাস আগে। এতে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয় ৯০ লাখ টাকা। কাজটি পান স্থানীয় ঠিকাদার রাজিব মিয়া।

স্থানীদের অভিযোগ, গত শনিবার ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ে কাজ শুরু হয়। এতে নিম্নমানের ইটের খোয়া ও বালু ব্যবহার করা হয়। গাঁথুনিও করা হয় নিম্নমানের ইট দিয়ে। তাই এলাকাবাসী ওই দিন ভালো মানের উপকরণ ব্যবহার করতে বলেন ঠিকাদারকে। এতে ঠিকাদার ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করলে লোকজন তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

চান্দামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহনাজ বেগম বলেন, শুক্র ও শনিবার স্কুল বন্ধ ছিল। ওই দুইদিন স্কুলে যাইনি। এ সুযোগে ঠিকাদার নিম্নমানের ইট ও বালু দিয়ে কাজ করছিলেন।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার দু’জন অভিযোগ করে বলেন, শনিবার নিম্নমানের ইট দিয়ে শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। এতে বাধা দিলে ঠিকাদার প্রভাব খাটিয়ে কাজ বন্ধ না করে উল্টা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এতে এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে প্রশাসনের লোকজন এসে ঠিকাদারকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।

ঠিকাদার রাজিব মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, আমি ঢাকায় ছিলাম। ভুলবশত দুই হাজার নিম্নমানের ইট স্কুলে নেওয়া হয়। স্থানীয়রা আপত্তি তোলায় তা ফেরত দিয়েছি। তবে আমাকে কেউ অবরুদ্ধ করে রাখেনি। বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি।

উপজেলা প্রকৌশলী মজিদুল হক বলেন, স্কুল ভবন নির্মাণে অনিয়ম পাওয়া গেছে এজন্য কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন ইউএনও কাজ করার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ তামান্না সোমবার মুঠোফোনে বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ভবন নির্মাণের সত্যতা পাওয়া গেছে। নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলে ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।