• ২৫শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অবরোধের শেষ দিনেও বাস কম, ভোগান্তিতে নগরবাসী

ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ২, ২০২৩, ০৪:২১ পূর্বাহ্ণ
অবরোধের শেষ দিনেও বাস কম, ভোগান্তিতে নগরবাসী
সংবাদটি শেয়ার করুন....

বিএনপি-জামায়াতের ডাকা ৭২ ঘণ্টা অবরোধের শেষ দিনেও রাজধানীতে গণপরিবহন কম দেখা গেছে। অবরোধের দ্বিতীয় দিনের তুলনায় বেশি গণপরিবহন দেখা গেলেও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। বাসের জন্য অনেক সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে অফিসগামী যাত্রীদের। নির্দিষ্ট গন্তব্যে বাস পেতেও সমস্যায় পড়তে হয়েছে অনেককে। ফলে ভোগান্তি দিয়েই সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস শুরু হয়েছে নগরবাসীর। এছাড়া দূরপাল্লার গাড়িগুলো আজও ঢাকা ছাড়ছে না।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকাল পৌনে নয়টা পর্যন্ত রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে। এসব এলাকায় গণপরিবহন চললেও স্বাভাবিক দিনের তুলনায় অনেক কম। আগুন আতঙ্ক থেকেই গাড়ি কম চলছে বলে কয়েকজন বাসের চালক জানান।
সংসদ নির্বাচন: ১০ লাখ ক্ষুদেবার্তায় নানা তথ্য দেবে ইসি

রামপুরা এলাকায় আন্তঃনগর পরিবহনের বেশ কিছু বাস চলতে দেখা গেছে। তবে বাসের যাত্রী ও স্টাফদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সকাল সাতটার দিকে উত্তরা যাওয়ার জন্য রামপুরায় বাসে ওঠেন জাহিদুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ উত্তরা যাওয়ার জরুরি প্রয়োজন হওয়ায় বাসে উঠলাম। মনে আগুন আতঙ্ক কাজ করছে। সকালে তুলনামূলক পিকেটিং বেশি হওয়ায় এই আতঙ্কটা বেশি কাজ করছে।’

রাইদা পরিবহনের বাসের এক চালক বলেন, ‘আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় বাস কম। কারণ একটি বাস পুড়লে অনেক ক্ষতি হয়। তারপরেও কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে বাস চালাচ্ছেন।’

উত্তর বাড্ডা ফুটওভার ব্রিজের নিচে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন রিমা আক্তার। মহাখালী যাওয়ার জন্য সেখানে অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।

রিমা বলেন, ‘অবরোধে নারীরা সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বনায় পড়েছি। প্রায় ২০ মিনিট ধরে বাসের জন্য আছি। এই রুটে এমনিতেই বাস কম। তার ওপর আবার অবরোধ। মাঝেমধ্যে দু-একটি বাস এলেও সেখানে উঠতে পারছি না। মেয়ে মানুষের দাঁড়াবার জায়গা নেই। একটু ফাঁকা কোনো গাড়ি আসবে সে অপেক্ষায় থাকলেও পাচ্ছি না। কিন্তু অফিসে তো যেতে হবে। বাসে উঠতে না পারলে বিকল্প পথ খুঁজতে হবে।

রিমার মতো সেখানে আরও অনেককেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। অনেকে উপায় না পেয়ে মোটরসাইকেল, রিকশা বা সিএনজি অটোরিকশায় যাচ্ছেন।

কমেছে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা
রাজধানীর কাকরাইল-পল্টন এলাকার অবস্থাও অনেকটা বুধবারের মতোই। ভিক্টর ক্লাসিক, গাজীপুর পরিবহন, আজমেরীসহ এই রুটে চলা গাড়িগুলো কিছু সময় পরে পরে সড়কে দেখা যাচ্ছে। মাতুয়াইল এলাকাতেও বলার মতো গণপরিবহন চোখে পড়েনি।

নগরে কিছু পরিবহন চললেও দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যাচ্ছে না বললেই চলে। সকালে মহাখালী থেকে হাতেগোনা এক-দুইটা গাড়ি ঢাকার বাইরে যেতে দেখা গেছে।

টার্মিনালে এনা পরিবহনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা জানান, প্রতিদিন অন্তত ১৫টির মতো গাড়ি ময়মনসিংহে গেলেও অবরোধের তিন দিনে চার থেকে পাঁচটি গাড়ি ছেড়েছে।

কারণে আজও অনেকটা ফাঁকা মহাখালীর মূল টার্মিনালের বাইরের এলাকা। নগরে চলা গাড়িও খুব কম দেখা গেছে সড়কে। অবশ্য বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের চাপ বাড়বে এমন প্রত্যাশা পরিবহন শ্রমিকদের।

মহিদুল ইসলাম নামে একজন বেসরকারি চাকরিজীবী সড়কের কথা জানতে চাইলে বলেন, প্রাইভেট গাড়ি যেগুলো চলছে প্রায় সবই অফিসিয়াল। আর বাস সব ভাঙ্গারিগুলো। মিরপুর থেকে মতিঝিল আসলাম কোন ব্রেক ছাড়া। রাস্তা এখন পর্যন্ত ক্লিয়ারই দেখেছি, পরে কী হবে বলতে পারব না।

গত শনিবার (২৮ অক্টোবর) নয়াপল্টনে মহাসমাবেশ ডেকেছিল বিএনপি। কিন্তু সমাবেশ শুরুর দেড় ঘণ্টা পর কাকরাইলে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে তা আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তুমুল সংঘর্ষে সমাবেশ পণ্ড হলে হরতাল ডাকে বিএনপি।

রোববার হরতাল শেষে তিন দিনের অবরোধ ডাকে প্রায় দেড় যুগ ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি। একই কর্মসূচি দেয় জামায়াতে ইসলামীও। জামায়াতের অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা আসে গত সোমবার।

অবরোধের মধ্যেও সারা দেশে পণ্য ও যাত্রী পরিবহণ চালু রাখার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতি।