সর্বশেষ: কৃষকদের মাঝে প্রণোদনার ঋণ বিতরণে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সোনালী ব্যাংক বরিশালের জিএম ঝালকাঠিতে মাক্স বিতরন করলো রোটারী ক্লাব ঝালকাঠিতে নাগরিক অ্যাডভোকেসি ফোরামের কমিটি গঠন হিমু সভাপতি, রিজভী সম্পাদক মহান বিজয় দিবস উদযাপনে নলছিটিতে প্রস্তুতিমুলক সভা ফকরুল মজিদ মাহমুদ কিরনের জন্মদিনে রিজভীর শুভেচ্ছা আশাশুনিতে ভূমিহীন গৃহহীনদের গৃহ নির্মাণ কাজ পরিদর্শনমুজিব বর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা গৃহহীন থাকবে না শরনখোলার লোকালয় থেকে অজগর উদ্ধার করে সুন্দরবনে অবমুক্ত। দুধ কেনার পয়সা নেই মিসরির পানি খেয়ে বেঁচে মা হারা শিশু ঈশান নলছিটির ভারপ্রাপ্ত ইউএনও করোনায় আক্রান্ত ঝালকাঠি সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ইলিয়াস বেপারীর জন্মদিন আজ

ঢাকা-বরিশাল নৌপথে একের পর এক হত্যাকান্ড: আতঙ্কে যাত্রীরা

প্রকাশ: 17 September, 2020 12:22 : PM

রাহাদ সুমন,বানারীপাড়া(বরিশাল)প্রতিনিধি:

ঢাকা-বরিশাল নৌপথে বিলাসবহুল লঞ্চে একের পর এক হত্যাকান্ড সংঘটিত হচ্ছে। এ নৌ পথ যেন ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের এক নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে। ভুয়া পরিচয় দিয়ে লঞ্চে কেবিন ভাড়া নিয়ে সঙ্গী প্রেমিকাকে রাতে ধর্ষণ শেষে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ভোরে লঞ্চ ঘাটে নৌঙর করার পরে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাচ্ছে ঘাতক প্রেমিক। প্রতিটি হত্যাকান্ডই সুপরিকল্পিতভাবে অত্যান্ত ঠান্ডা মাথায় করা হয়েছে। বিপরীতে জীবন দিয়ে প্রেমিকের প্রতি অগাত বিশ্বাস,আস্থা আর অকৃিত্রম ভালোবাসার চরম খেসারত দিতে হয়েছে হত্যাকান্ডের শিকার হওয়া প্রেমিকাদের।
গত ৪ বছরে অন্তত ৪ টি খুনের ঘটনা ঘটেছে এই পথে চলাচলকারী লঞ্চগুলোতে। কাকতালীয়ভাবে হত্যাকান্ডের শিকার ৪জনই নারী।

সর্বশেষ গত ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার জান্নাতুল ফেরদৌস লাবনী নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে পারাবত-১১ লঞ্চ থেকে। এমন খুনের ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে যাত্রী সাধারণের মাঝে। তারা নদী পথে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন। এদিকে খুনের ঘটনায় নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে গিয়ে পরস্পরের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, গত বছরের ২০ জুলাই বরিশালে এমভি সুরভী-৮ লঞ্চের স্টাফ কেবিন থেকে আঁখি নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছিল। ২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল বরিশালগামী পারাবত-৯ লঞ্চে সিফাত নামে এক তরুণীকে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা। ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট ঢাকা থেকে বরিশালগামী পারাবাত-১০ লঞ্চের কেবিন থেকে উদ্ধার করা হয় মিনারা বেগম নামের এক নারীর লাশ।

সর্বশেষ গত ১৪ সেপ্টেম্বর

সোমবার জান্নাতুল ফেরদৌস লাবনী নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয় পারাবত-১১ লঞ্চের ৩৯১ নম্বর সিঙ্গেল কেবিন থেকে। যদিও উল্লিখিত হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে দুর্বল ব্যবস্থাপনার অভাবে খুনের পূর্বেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে অপারগ ছিলেন লঞ্চ কর্তৃপক্ষ এবং বিআইডব্লিউটিএ। আর এ কারণে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে চলাচলকারী যাত্রীবাহী লঞ্চে খুনের মত জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সাধারণ যাত্রীরা। এদিকে বিআইডব্লি­উটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ হত্যার দায় নিজেদের ঘাড়ে নিতে নারাজ। তার জানিয়েছে, লঞ্চে খুন-খারাবি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তাদের নয়। সেই দায়িত্ব পালন করবেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

অভ্যন্তরীণ লঞ্চ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি ও এমভি সুন্দরবন লঞ্চের স্বত্বাধিকারী সাঈদুর রহমান রিন্টু বলেন, লঞ্চে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। তবে যাত্রীদের ভিড়ে এবং লঞ্চের কেবিনে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলে প্রকৃত খুনিকে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া অনেক কেবিন যাত্রীই মিথ্যা পরিচয়ে লঞ্চে ওঠেন। এজন্য কেবিন ভাড়া নেয়ার আগে প্রতি যাত্রীর পরিচয়পত্র নিশ্চিত করা উচিত। রিন্টু বলেন, লঞ্চের স্টাফরা বাড়তি আয়ের আশায় প্রায় সময়ই নিজেদের কেবিন ভাড়া দিয়ে থাকেন। যে কারণে একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে মনে করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল নৌ থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, লঞ্চের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব তাদের নয়। তবে লঞ্চ বরিশাল ঘাটে থাকাবস্থায় তারা বিষয়টির প্রতি নজর রাখেন। তিনি বলেন, সোমবারে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান চৌধুরীকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নৌ পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষনিক সর্তক অবস্থানে রয়েছেন বলেও জানান তিনি।