কুরবানি: অন্যান্য ধর্মে নিয়ম কী?

প্রকাশ: 31 July, 2020 1:54 : PM

ইসলাম ধর্মে দুই ঈদের মধ্যে ঈদুল আজহা মূলত ত্যাগের উপলক্ষ্য। এ দিন মুসলমানরা পশু কুরবানি দিয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন।

পবিত্র কুরআনের সুরা সাফফাতের ১০০-১১২ নম্বর আয়াতে কুরবানির বিষয়ে বিস্তারিত বিবৃত হয়েছে। সে অনুসারে আল্লাহ ইবরাহিমকে (আ) সরাসরি তাঁর পুত্র ইসমাইলকে (আ) জবেহের নির্দেশ দেন। এরপর আল্লাহ ইসমাইলের পরিবর্তে একটি দুম্বাকে সেখানে পাঠিয়ে দেন এবং ইবরাহিম (আ.) সেটাকেই জবেহ করেন।
স্রষ্টার অস্তিত্বে অবিশ্বাসী এবং আধুনিক কিছু মানুষ কুরবানিকে বিভৎসতা ও নৃশংসতা হিসেবে অপপ্রচার করলেও পৃথিবীর সকল প্রধান প্রধান জাতি ও ধর্মে এ কুরবান তথা পশু উৎসর্গ প্রথা ভাবগাম্ভীর্যের সাথে উদযাপিত হয়।

ইহুদি:
ইহুদিরা পাঁচ ধরনের কুরবানি দেয়। গোনাহ মাফ, যোগাযোগ, শুকরিয়া জানানোসহ বিভিন্ন কারণে তারা পশু বলী দেয়।
খ্রিস্টান:
খ্রিস্ট ধর্মে কুরবানি দেয়ার বর্ণনা কিতাবুল মুকাদ্দাসে লিপিবদ্ধ রয়েছে। ইউসুফ ও মরিয়ম মসিহের ( ঈসা আ.) জন্মের পর কবুতর উৎসর্গ করেছেন। এখনও অর্থোডক্স চার্চে একেশ্বরবাদী খ্রিস্টানরা বকরি ও মুরগী কুরবানি দেয়।
সনাতন:
অন্যদিকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাঁঠা বলিদানের বিষয় সর্বজনবিদিত। হিন্দুরা মায়ের চরণে পাঁঠা বলী দেয় এবং তাঁদের ধর্ম বিশ্বাস মতে, মা স্বয়ং পাঁঠার গোস্তের স্বাদ আস্বাদন করেন।
নেপালে প্রতি পাঁচ বছর পরপর দেবী গাধিমাইয়ের সন্তুষ্টির জন্য বারা জেলায় প্রায় একদিনেই পাঁচ লক্ষ পশু বলী দেয়া হয়। যা একদিনে একই জায়গায় সর্বোচ্চ কুরবানির রেকর্ড।
এ ছাড়াও পৃথিবীর সকল জাতি ও উপজাতিরা পশু বলিদান করে থাকেন। সকল নবীর যুগেই কুরবানি ছিল বলে সুরা হজের ৩৪ নম্বর আয়াতে বর্ণিত আছে। আদি পিতা আদম (আঃ) এর পুত্র হাবিল কাবিলের সময় কুরবানির প্রচলন হয়। সে সময় কুরবানি কবুল হলে একখণ্ড আগুন এসে তা জ্বালিয়ে দিত। ইবরাহিমকে (আঃ) কুরবানির নির্দেশ দেয়া হয় নিজ পুত্রকে আল্লাহর রাহে উৎসর্গ করতে। পুত্র ইসমাইলও (আঃ) সে সিদ্ধান্ত মেনে নেন। তখন থেকে উপযুক্ত মুসলমানদের উপর কুরবানি ওয়াজিব করা হয়।