সর্বশেষ: কৃষকদের মাঝে প্রণোদনার ঋণ বিতরণে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সোনালী ব্যাংক বরিশালের জিএম ঝালকাঠিতে মাক্স বিতরন করলো রোটারী ক্লাব ঝালকাঠিতে নাগরিক অ্যাডভোকেসি ফোরামের কমিটি গঠন হিমু সভাপতি, রিজভী সম্পাদক মহান বিজয় দিবস উদযাপনে নলছিটিতে প্রস্তুতিমুলক সভা ফকরুল মজিদ মাহমুদ কিরনের জন্মদিনে রিজভীর শুভেচ্ছা আশাশুনিতে ভূমিহীন গৃহহীনদের গৃহ নির্মাণ কাজ পরিদর্শনমুজিব বর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা গৃহহীন থাকবে না শরনখোলার লোকালয় থেকে অজগর উদ্ধার করে সুন্দরবনে অবমুক্ত। দুধ কেনার পয়সা নেই মিসরির পানি খেয়ে বেঁচে মা হারা শিশু ঈশান নলছিটির ভারপ্রাপ্ত ইউএনও করোনায় আক্রান্ত ঝালকাঠি সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ইলিয়াস বেপারীর জন্মদিন আজ

বুক ব্যথা মানেই হার্টের অসুখ নয়

প্রকাশ: 6 June, 2020 5:03 : AM

হার্ট অ্যাটাকের প্রধান ও পরিচিত লক্ষণ হলো বুকে ব্যথা। মায়োকার্ডিয়াল ইনফেকশন বা হার্ট অ্যাটাকের এই ব্যথা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বুকের মাঝখানে বা বাম পাশে শুরু হয় এবং ক্রমেই তা হাত, গলা বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ব্যথার ধরনটিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চাপ দিয়ে ধরে রাখা বা বুকটা দুমড়েমুচড়ে যাওয়ার মতো। অনেকে বুকের চারদিকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে, এমনতর অসহ্য দম বন্ধ হয়ে আসার মতো বর্ণনা করে থাকেন। এই অসহ্য ব্যথার সঙ্গে সঙ্গে ঘাম হবে প্রচুর। হার্ট অ্যাটাকের এই সাধারণ উপসর্গ দেখা দিলে সবাইকে সতর্ক হতে হবে। একে গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা মনে করবেন না।

আবার দুটো আলসার নিরোধক বড়ি আর অ্যান্টাসিড সেবন করে ভুলেও পড়ে থাকবেন না। যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতাল বা নিদেনপক্ষে ডাক্তারের কাছে পৌঁছাতে হবে। কিন্তু সব সময় হার্ট অ্যাটাকে এ রকম চিরচেনা উপসর্গ নাও দেখা দিতে পারে। অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা হার্ট অ্যাটাকের প্রধান ও প্রথম লক্ষণ হলেও এর এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে অন্য কিছুও হতে পারে। হতে পারে এমনই সাধারণ কিছু, যা আপনাকে বিভ্রান্ত করতে পারে। তাই জেনে রাখা উচিত হার্ট অ্যাটাকের বিরল উপসর্গগুলোকেও।

বুকে ব্যথার সোজাসাপটা ধরন ছাড়া হার্ট অ্যাটাক ভিন্ন ধরনের হওয়ার হার দেখা গেছে মেয়েদের, বয়স্কদের এবং দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসে ভোগা রোগীদের ক্ষেত্রে। আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন সাময়িকীর একটি প্রবন্ধে দেখা যায়, কমপক্ষে ৩১ শতাংশ পুরুষের হার্ট অ্যাটাকের সময় বুকে ব্যথা ছাড়া অন্য ধরনের উপসর্গ হয়। মেয়েদের ক্ষেত্রে এই হার ৪২ শতাংশ। সাধারণত ৫৫ বছরের কম বয়সী নারীদের ভিন্ন ধরনের উপসর্গ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস থাকার কারণে দেহের সিমপ্যাথেটিক ও প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্নায়ুতন্ত্র সতর্ক সংকেত অনুযায়ী যথাযথ সাড়া দিতে ব্যর্থ হয়, ফলে কোনো উপসর্গই হয় না। একে বলে নীরব হার্ট অ্যাটাক বা সাইলেন্ট মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন। এ সমস্যা হতে পারে অতি বয়স্কদেরও। জিনগতভাবে মানুষের কিছু কিছু গোষ্ঠীর মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ ভিন্নতর হয়ে থাকে। হার্ট অ্যাটাকের অস্বাভাবিক লক্ষণের মধ্যে প্রধান হলো- বুকে ব্যথা ছাড়া হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়া, ভীষণ দুর্বলতা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তিবোধ, পেটের ওপর দিকে বা পেছনে ব্যথা, গ্যাস্ট্রিক-আলসারের ব্যথাসহ অরুচির অনুভূতি, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া, মাথা ঝিমঝিম করা, মাথা হালকা হয়ে যাওয়া, হূৎস্পন্দনে বা নাড়ির গতিতে অস্বাভাবিকতা ইত্যাদি। সুতরাং যারা হৃদরোগের ঝুঁকিতে আছেন তাদের মাঝে এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলেও সতর্ক হওয়া উচিত। পরিবারে হার্ট অ্যাটাকের ইতিহাস, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও রক্তে উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল রয়েছে এমন ব্যক্তি, স্থূলকায় ও ধূমপায়ী ব্যক্তিরা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকির মধ্যে আছেন। যে কোনো অস্বাভাবিকতা, এমনকি কেবল অন্য ধরনের খারাপ লাগার অনুভূতি এদের জন্য হার্টের অসুখের বার্তা বহন করে থাকে।